ভারতের পরমাণু চর্চা (দ্বিতীয় পর্ব): ভারতে পরমাণু গবেষণার সূচনা ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি স্থাপন (১৯৪৪–১৯৫৪)

Tushar Gorai


Oct. 31, 2026 | | views :2 | like:0 | share: 0 | comments :0

সদ্য স্বাধীন ভারতের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন এবং আধুনিক বিজ্ঞানচর্চার ইতিহাসে ১৯৪৪ থেকে ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত দশকটি ছিল প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সময়কাল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসলীলা এবং হিরোশিমা ও নাগাসাকির মানবিক বিপর্যয় ভারতীয় রাষ্ট্রনেতাদের মনে মারণাস্ত্র নির্মাণের বিরুদ্ধে তীব্র নৈতিক অবস্থান তৈরি করলেও, দেশের শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক বিকাশের স্বার্থে পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা তাঁরা শুরু থেকেই অনুধাবন করেছিলেন। এই দশকে একদিকে যেমন দূরদর্শী বিজ্ঞানীদের উদ্যোগে ভারতের নিজস্ব গবেষণাগার ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে ওঠে, অন্যদিকে তেমনই রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গোপনীয়তা রক্ষা ও স্বনির্ভর প্রযুক্তি বিকাশের জন্য সুনির্দিষ্ট আইনি ও প্রশাসনিক কাঠামো নির্মিত হয়।

২.১ হোমি জাহাঙ্গীর ভাবার দূরদর্শিতা ও টাটা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা

ভারতে পরমাণু শক্তি চর্চার প্রারম্ভিক ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছিলেন বিজ্ঞানী ড. হোমি জাহাঙ্গীর ভাবা, যাঁকে যথার্থই ভারতের পরমাণু শক্তি চর্চার জনক হিসেবে অভিহিত করা হয়। পরমাণু শক্তির সাহায্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে ড. ভাবা প্রথম থেকেই অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন এবং ভারতের পরমাণু গবেষণার ভিত্তি নির্মাণে তাঁর অবদান ছিল অপরিসীম। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে তিনি কসমিক রে (Cosmic Ray) বা মহাজাগতিক রশ্মি বিষয়ক গবেষণায় ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন। বিদেশে অবস্থানকালে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন খ্যাতনামা বিজ্ঞানীদের গবেষণাগারগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পান এবং আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের প্রায়োগিক ও প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণা সম্পর্কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেন।

বিদেশ থেকে স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের পর ড. ভাবা বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স (Indian Institute of Science) সংস্থায় গবেষণা ও স্নাতকোত্তর বিজ্ঞান কেন্দ্রে রিডার ও লেকচারার হিসেবে যোগদান করেন। তাঁর মৌলিক বৈজ্ঞানিক গবেষণার স্বীকৃতিস্বরূপ পরবর্তীকালে তিনি ব্রিটেনের মর্যাদাপূর্ণ রয়্যাল সোসাইটির ফেলো (Fellow of the Royal Society) নির্বাচিত হন। বেঙ্গালুরুতে গবেষণারত অবস্থাতেই তিনি অনুভব করেন যে, ভারতে বিশ্বমানের পারমাণবিক গবেষণা পরিচালনার জন্য একটি স্বতন্ত্র ও অত্যাধুনিক প্রাতিষ্ঠানিক পরিকাঠামো প্রয়োজন।

ড. ভাবার দূরদর্শিতার সবচেয়ে বড় প্রমাণ মেলে ১৯৪৪ সালে গৃহীত তাঁর ঐতিহাসিক উদ্যোগটির মধ্যে। ১৯৪৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পরমাণু বোমার প্রথম পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণ ঘটানোরও এক বছর আগে, ১৯৪৪ সালে বিজ্ঞানী ভাবা ভারতে একটি পারমাণবিক গবেষণাগার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পগোষ্ঠী টাটা গোষ্ঠীর সাথে আলোচনা শুরু করেন। টাটা ট্রাস্টের কাছে পেশ করা প্রস্তাবে ড. ভাবা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন যে, এই ধরনের উচ্চমানের গবেষণার জন্য ভারতে ইতিমধ্যেই দক্ষ এবং কুশলী বিজ্ঞানীরা রয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, ধ্বংসাত্মক কাজে এই পরমাণু প্রযুক্তি ব্যবহার না করেও কেবলমাত্র দেশের শিল্পায়নের প্রভূত উন্নতির জন্য এই প্রযুক্তিকে সফলভাবে ব্যবহার করা সম্ভব।

বিজ্ঞানী ভাবার এই দূরদর্শী আবেদন অনুযায়ী টাটা ট্রাস্ট ফান্ডের অনুমোদনে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘টাটা ইনস্টিটিউট অফ ফান্ডামেন্টাল রিসার্চ’ (Tata Institute of Fundamental Research - TIFR)। ভারতের পরমাণু কর্মসূচির বিকাশে এই প্রতিষ্ঠানের ঐতিহাসিক গুরুত্ব অনুধাবন করে ড. ভাবা স্বয়ং এই সংস্থাকে ভারতের পরমাণু চর্চার শিশুর লালন-পালনের দোলনা হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। বস্তুত, পরবর্তীকালে ভারতের পরমাণু কর্মসূচির মূল কারিগর ও বিজ্ঞানীদের প্রথম প্রজন্মটি এই প্রতিষ্ঠানের গবেষণাগারেই গড়ে উঠেছিল।

২.২ আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো: রিসার্চ কমিটি ও ১৯৪৮-এর অ্যাটমিক এনার্জি অ্যাক্ট

ভারত স্বাধীনতা লাভের পূর্ববর্তী সময় থেকেই পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিদ্যার উন্নতির মাধ্যমে দেশের আধুনিকীকরণের কথা বিভিন্ন সভা-সমিতিতে ধারাবাহিকভাবে বলে আসছিলেন। পরমাণু শক্তির ধ্বংসাত্মক দিকটির পাশাপাশি এর গঠনমূলক প্রক্রিয়া সম্পর্কেও তিনি জাতিকে সুস্পষ্ট দিশা নির্দেশ দিয়েছিলেন। টাটা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার পর ভারতের পরমাণু গবেষণাকে কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই লক্ষ্যে টাটা ইনস্টিটিউটের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ১৯৪৬ সালে ভারতে গঠিত হয় ‘অ্যাটমিক এনার্জি রিসার্চ কমিটি’ (Atomic Energy Research Committee)। এই সংস্থার মাধ্যমেই ভারতের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পারমাণবিক বিজ্ঞান চর্চার ব্যাপক প্রসার ঘটে।

১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা লাভের পর পরমাণু গবেষণাকে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ ও আইনি সুরক্ষার অধীনে আনার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর প্রত্যক্ষ প্রচেষ্টায় ১৯৪৮ সালে ভারতের গণপরিষদে (Constituent Assembly) গৃহীত হয় ‘অ্যাটমিক এনার্জি অ্যাক্ট’ (Atomic Energy Act) বা পরমাণু শক্তি আইন। সদ্য স্বাধীন একটি দেশের পক্ষে এই আইন প্রণয়ন ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এক কৌশলগত পদক্ষেপ।

১৯৪৮ সালের এই আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ গোপনীয়তা বজায় রেখে দেশের অভ্যন্তরে দক্ষ পরমাণু বিজ্ঞানী এবং প্রযুক্তিবিদদের গড়ে তোলা ভারতের মূল লক্ষ্য হয়ে ওঠে। ঠান্ডা যুদ্ধের সেই প্রারম্ভিক পর্বে পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর একচেটিয়া আধিপত্যের মুখে ভারতীয় বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত নবতর প্রযুক্তিগুলো বহির্বিশ্বের কাছে উন্মুক্ত না করাই ছিল এই আইনের একমাত্র ও প্রধান উদ্দেশ্য। এই আইনি সুরক্ষার ফলে ভারতীয় বিজ্ঞানীরা সম্পূর্ণ নিজস্ব পরিবেশে হাতে-কলমে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে দেশীয় পারমাণবিক প্রযুক্তি আবিষ্কারে ব্রতী হন এবং পরবর্তীকালে নতুন ধরনের ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর (Fast Breeder Reactor) বা চুল্লি উদ্ভাবনে সক্ষম হন। ১৯৪৭ থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত ভারতীয় বিজ্ঞানীরা মারণাস্ত্র বা পরমাণু বোমা তৈরিতে সরাসরি কৌতূহলী না হলেও, দীর্ঘদিনের নিরবচ্ছিন্ন চর্চা ও গোপনীয়তার মধ্য দিয়ে অর্জিত এই প্রযুক্তিগত ভিত্তিই পরবর্তীকালে ভারতকে পরমাণু বিস্ফোরণ ঘটানো এবং বোমা বহনকারী ব্যালিস্টিক মিসাইল নির্মাণের সক্ষমতা এনে দিয়েছিল।

২.৩ ড. মেঘনাদ সাহার ভূমিকা এবং পরমাণু শক্তি দপ্তর (DAE) গঠন (১৯৫৪)

পঞ্চাশের দশকের শুরুতে ভারতে যখন পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণ এবং জ্বালানি গবেষণার প্রাথমিক প্রস্তুতি চলছিল, তখন এর কারিগরি ও কূটনৈতিক ঝুঁকিগুলোও ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছিল। শান্তিপূর্ণ কাজে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহারের জন্য প্রয়োজন ছিল সুদূরপ্রসারী ও সুবিস্তৃত পরিকল্পনা, জটিল তাত্ত্বিক বিষয়বস্তুর ওপর গভীর দক্ষতা এবং নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ইউরেনিয়াম, প্লুটোনিয়াম এবং থোরিয়াম জ্বালানির ব্যবহারিক প্রয়োগে বিজ্ঞানীদের নানাবিধ কারিগরি জটিলতার সম্মুখীন হতে হয়। এছাড়াও ভারী জলের চুল্লি, হালকা জলের চুল্লি কিংবা গবেষণাকর্মে সহায়ক চুল্লিগুলোর পরিচালনা ও মেরামতি ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিসাপেক্ষ কাজ। এর পাশাপাশি চুল্লির যন্ত্রাংশ আমদানি, বিদেশ থেকে পারমাণবিক জ্বালানি সংগ্রহ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক বিরোধিতা এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু সংস্থার পরিদর্শনের মতো জটিল ভূ-রাজনৈতিক বিষয়গুলোও ভারতের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উপস্থিত ছিল।

এই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও সংবেদনশীল কাজে ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পদার্থবিজ্ঞানী ড. মেঘনাদ সাহা প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত নেহরুকে সর্বাগ্রে সচেতন করেন। ড. সাহা উপলব্ধি করেছিলেন যে, আন্তর্জাতিক স্তরে পরমাণু শক্তি নিয়ে যেহেতু তীব্র জটিলতা রয়েছে, তাই দেশে পারমাণবিক রিঅ্যাক্টর স্থাপন ও পরিচালনার ক্ষেত্রে যথেষ্ট গুরুত্ব এবং সর্বোচ্চ সাবধানতা অবলম্বন করা অপরিহার্য।

পরমাণু গবেষণার ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণের জন্য ১৯৫৪ সালের ২৬ ও ২৭ নভেম্বর পণ্ডিত নেহরু এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। বিষয়টির কৌশলগত গোপনীয়তা ও গুরুত্ব বিবেচনা করে তিনি কোনো প্রকাশ্য স্থানে না গিয়ে নিজের বাসভবনেই ভারতের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং গবেষণাগারে কর্মরত শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানীদের নিয়ে পরমাণু শক্তি সম্পর্কিত একটি উচ্চপর্যায়ের সভার আয়োজন করেন।

দুই দিনব্যাপী এই গুরুত্বপূর্ণ সভার মূল বক্তা ছিলেন ড. মেঘনাদ সাহা। তাঁর সুচিন্তিত বক্তব্যে তিনি পরমাণু শক্তির উৎপাদন ও ব্যবহারের জন্য দেশে দক্ষ প্রযুক্তিবিদ গড়ে তোলার ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করেন এবং এই উদ্দেশ্যে নানা ধরনের বিশেষায়িত গবেষণাগার ও সংস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন। এই সমস্ত বহুমুখী গবেষণা ও কারিগরি কর্মকাণ্ডকে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য একটি একক কেন্দ্রীয় দপ্তরের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এরই ফলশ্রুতিতে সেই ১৯৫৪ সালেই সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব এখতিয়ারে ‘ডিপার্টমেন্ট অফ অ্যাটমিক এনার্জি’ (Department of Atomic Energy - DAE) বা পরমাণু শক্তি দপ্তরের মূল কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।

নবগঠিত এই পরমাণু শক্তি দপ্তরের (DAE) সামনে চারটি সুনির্দিষ্ট মূল উদ্দেশ্য নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল: ১. পারমাণবিক জ্বালানি ব্যবহারের মাধ্যমে পরমাণু শক্তির সাহায্যে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা স্থাপন করা। ২. পরমাণু প্রযুক্তির জটিল কাজ পরিচালনার জন্য দেশের ভেতরেই একদল দক্ষ ও কুশলী প্রযুক্তিবিদ গোষ্ঠী গড়ে তোলা। ৩. দেশের বিজ্ঞানীদের মৌলিক ও ফলিত গবেষণাকর্মে সহায়তার জন্য নিজস্ব গবেষণামূলক পারমাণবিক চুল্লি গড়ে তোলা। ৪. পারমাণবিক চুল্লি থেকে রেডিও আইসোটোপ (Radioisotope) সংগ্রহ করে এনে মানুষের নানা জটিল রোগের ঔষধ তৈরি এবং কৃষিক্ষেত্রে ব্যবহারযোগ্য উপাদান প্রস্তুতির আয়োজন করা।

২.৪ সহযোগী গবেষণা প্রতিষ্ঠানসমূহ এবং বহুমুখী প্রাতিষ্ঠানিক জাল বিস্তার

১৯৫৪ সালে পরমাণু শক্তি দপ্তর (DAE) প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর, পরমাণু শক্তির উৎপাদন এবং তার বহুমুখী ব্যবহার ও প্রয়োগ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান তৈরি করে সেগুলোকে সরাসরি এই কেন্দ্রীয় দপ্তরের অধীনে রাখার ব্যবস্থা করা হয়। ভারতের পরমাণু কর্মসূচিকে স্বনির্ভর করে তুলতে এই প্রতিষ্ঠানগুলো একেকটি স্তম্ভ হিসেবে কাজ করেছে। পরমাণু শক্তি দপ্তরের অধীনে গড়ে ওঠা এই প্রধান প্রতিষ্ঠানগুলো হলো:

  • ভাবা অ্যাটমিক রিসার্চ সেন্টার (Bhabha Atomic Research Centre - BARC): পরমাণু বিজ্ঞানের মৌলিক ও ফলিত গবেষণা এবং চুল্লি প্রযুক্তির বিকাশে ভারতের প্রধানতম গবেষণা কেন্দ্র।
  • সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড টেকনোলজি (Centre for Advanced Technology - CAT): উন্নততর পারমাণবিক ও আনুষঙ্গিক প্রযুক্তির উদ্ভাবন ও গবেষণার জন্য গঠিত বিশেষ সংস্থা।
  • ভেরিয়েবল এনার্জি সাইক্লোট্রন সেন্টার (Variable Energy Cyclotron Centre - VECC): কণা ত্বরক বা সাইক্লোট্রনের সাহায্যে নিউক্লীয় পদার্থবিজ্ঞান এবং রেডিও আইসোটোপ গবেষণার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র।
  • অ্যাটমিক মিনারেলস ডাইরেক্টরেট (Atomic Minerals Directorate - AMD): দেশের অভ্যন্তরে ইউরেনিয়াম ও থোরিয়ামের মতো পারমাণবিক খনিজ সম্পদের অনুসন্ধান ও জরিপ পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা।
  • হেভি ওয়াটার বোর্ড (Heavy Water Board): ভারতের পারমাণবিক চুল্লিগুলোতে মডারেটর ও কুল্যান্ট হিসেবে অপরিহার্য ভারী জল (Heavy Water) উৎপাদনের জন্য প্রতিষ্ঠিত সংস্থা।
  • নিউক্লিয়ার ফুয়েল কমপ্লেক্স (Nuclear Fuel Complex - NFC): প্রাকৃতিক আকরিক থেকে পরিশোধিত পারমাণবিক জ্বালানি এবং চুল্লির প্রয়োজনীয় উপাদান প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান।

১৯৪৪ থেকে ১৯৫৪ সালের মধ্যে গড়ে ওঠা এই সুদৃঢ় প্রাতিষ্ঠানিক পরিকাঠামোর ফলেই ড. হোমি ভাবার পরবর্তী সময়ে ভারতে পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণের জন্য আর বৈদেশিক কারিগরি সাহায্যের ওপর নির্ভর করতে হয়নি; ভারতীয় কারিগর এবং বিজ্ঞানীরা নিজেরাই সেই উচ্চতর দক্ষতা অর্জনে সক্ষম হয়েছিলেন। ভারতের বিপুল থোরিয়াম ভাণ্ডারকে কাজে লাগিয়ে সুলভে দেশবাসীর বিদ্যুতের প্রয়োজন মেটানোর যে নিরন্তর প্রচেষ্টা ভারতীয় বিজ্ঞানীরা চালিয়ে যাচ্ছেন, তার প্রকৃত বীজটি রোপিত হয়েছিল এই দশকের প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগগুলোর মাধ্যমেই।

আমাদের কথা


এই দুর্নিবার সময়েও লেখনী চালিয়ে যাওয়ার মত ধীশক্তি ধরে রেখে মুক্তচিন্তকরা নিরন্তর লিখে চলেছেন। তাঁদের লেখাগুলি সংকলিত করে প্রকাশিত হয়ে চলেছে চেতনার অন্বেষণে পত্রিকা। যা দুই বাংলার পাঠকদের কাছে দ্রুত সমাদৃত হয়। এই পথ চলার একটি ধাপে এসে অন্বেষণ পাবলিশার্স পথ চলা শুরু করেছে মূলত মুক্তচিন্তা ও বিজ্ঞানমনস্ক বইগুলিকে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে। আমাদের কথা বলতে লেখক, পাঠক সবাই মিলিয়েই আমরা।

ওয়েবসাইট প্রসঙ্গে


এটি মূলত বিজ্ঞানমনস্কতা, যুক্তিবাদ চর্চা এবং বইপত্রের প্ল্যাটফর্ম। এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে যুক্তিবাদীদের লেখার চর্চাকে অনুপ্ররণা যোগাবে। লগইন করে আপনিও লিখতে পারবেন, ওয়েবসাইটটি সমস্ত বিজ্ঞানমনস্ক, যুক্তিবাদীদের উদ্দেশ্যে নির্মিত।

যোগাযোগ


Email: yuktibadira@gmail.com

WhatsApp: +91-9433794-113


Website visit count:
96049