বর্তমানে আমরা এমন এক যুগে বাস করি যেখানে দিন-প্রতিদিন আমরা যন্ত্রনির্ভরশীল হয়ে উঠছি । সকালবেলা মোবাইলের অ্যালার্ম শুনে ঘুম থেকে ওঠা এবং চটপট নোটিফিকেশন খুঁজে নেওয়া আমাদের প্রাত্যহিক অভ্যাস হয়ে উঠেছে। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশ দিয়ে তৈরি মোবাইলে আমরা গোটা পৃথিবীকে খুঁজে বেড়াই। সত্যিই কি আমরা খুঁজে পাই?
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিত্যনতুন কান্ডকারখানার হাজারো ঘটনা আমরা দেখছি। সত্যিই কত কি করে ফেলা সম্ভব সহজ উপায়ে। যে কোন প্রশ্ন করলে চটজলদি উত্তর দিয়ে দেয়। অংক কষতেও পারে। হাজার হাজার বছর ধরে কঠোর পরিশ্রমের জ্ঞান-বিজ্ঞান কত কম সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা রপ্ত করে নিয়েছে। তাহলে মানুষের আর কি কোন প্রয়োজন নেই? যন্ত্র দিয়ে চলবে আমাদের জীবন আর বিশ্ব। এই কি আমাদের কাছে কঠোর বাস্তব। যেভাবে আমরা বছরের পর বছর হেয় করে এসেছি আমাদের মাতৃসম প্রকৃতিকে সেভাবেই কি যন্ত্রও একদিন আমাদের সাথে অপব্যবহার করবে।
বর্তমানে প্রকৃতি তার স্বচ্ছন্দ হারিয়েছে। মানুষের কার্যকলাপের ফলে প্রকৃতির নিয়ম বিঘ্নিত হয়েছে এবং তার ফলস্বরুপ প্রকৃতি আমাদের ওপর অনিয়মিতভাবে প্রতিক্রিয়া করেছে। সমুদ্রের জলতল বৃদ্ধি হওয়ার ফলে দ্বীপ সংলগ্ন এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গাছ কাটার জন্য বাস্তুতন্ত্র ভারসাম্য হারিয়েছে। কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ, জলচক্র, অক্সিজেন উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। জল দূষণ, বায়ু দূষণ, মাটি দূষণ গল্প-কবিতার রহস্যময়ী, মনোরম পরিবেশকে ধ্বংস করে বিষিয়ে দিয়েছে। বিশ্বাস উষ্ণায়ন আজ চরম অবস্থায় আমাদের নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে। সকল প্রাণীকুল এর প্রভাবের মধ্যে। মনুষ্যসৃষ্ট কারণের জন্যে জনজীবন এবং সকল প্রাণীকুল আজ বিপন্ন।
মানুষ কত কি না পারে। চারিদিকে যতো দেখি তত অবাক হয়ে যাই বড় বড় ইমারৎ, অত্যাধুনিক যন্ত্র, যুদ্ধাস্ত্র, শিল্প - সংস্কৃতি আরো কত সব সৃষ্টি তার। তবে আমরা কি পারিনা সুন্দর পৃথিবীটাকে পুনর্বাসন দিতে?
চলো আমরা সবে এক হয়ে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই প্রকৃতির জন্য।