"নারীর ভার্জিনিটি: পুরুষতান্ত্রিক ভোগবাসনার এক প্রাচীন চক্রান্ত"
যখন থেকে এই পৃথিবীতে পুরুষতান্ত্রিকতার যাত্রা শুরু, সেভাবেই শুরু হয়েছে নারীর শরীর নিয়ে ব্যবসা, বিচার আর জঘন্য এক বর্ণবাদ।
আর এই ব্যবস্থার সবচেয়ে কুৎসিত এবং পচনধরা অংশ- "নারীর ভার্জিনিটি"।
পুরুষশাসিত সমাজ নারীর সতীত্বকে করেছে এক ‘সার্টিফিকেট’, এক ‘প্রমাণপত্র’-
যেটি নাকি বলে দেয়, নারী ভালো না খারাপ, পবিত্র না অপবিত্র, ঘরনী হবে না ‘পথের নারী’।
কে কার ভার্জিনিটি পাবে- এ নিয়ে ইতিহাস জুড়ে পুরুষেরা করেছে রক্তারক্তি, তৈরি করেছে ধর্মীয় নিয়ম, সামাজিক শাস্তি, আর নোংরা এক লজ্জার দেয়াল।
আজকের এই তথাকথিত আধুনিক যুগেও আমরা দেখছি-
ধর্মের পোশাক গায়ে দিয়ে অসংখ্য মুসলিম স্কলার, হিন্দুদের ব্রাহ্মণ, খ্রিস্টানদের ফাদারসহ সব গোত্রের ‘পুরুষপন্ডিত’রা নারীর যৌনি নিয়ে বক্তৃতা দিচ্ছে!
তাদের মুখে ধ্বনিত হচ্ছে অশ্লীল ও অপমানজনক বয়ান:
"ভার্সিটির ১০০ মেয়ে, তার মধ্যে ৯৫ জনের ভার্জিনিটি নেই, তাই তাদের বিয়ে করা যায় না!"
প্রশ্ন হলো- এই নারীর যৌনি যে তোমার তথাকথিত ‘ভাঙা’,
তোমার মতোই তো এক পুরুষ-দেহই সেই যৌনতায় অংশ নিয়েছে।
তবে তাকে দোষ দেওয়া হচ্ছে না কেন?
তবে কি সেই পুরুষ কোনো "ভিনগ্রহের এলিয়েন" ছিলো?
এই ‘ভার্জিনিটি’ নামক ষড়যন্ত্রের শেকড় আরও ভয়ংকর।
হাজার হাজার বছর আগে মেয়েদের যৌনিপথ সেলাই করে দেওয়া হতো-
এটা ছিলো নারীর যৌনাঙ্গ বিকৃতি (Female Genital Mutilation - FGM)-এর সবচেয়ে নির্মম রূপ - ইনফিবুলেশন।
বিশ্বের বহু দেশে- সোমালিয়া, সুদান, মিশর, সিরিয়া, ইথিওপিয়া- এই বর্বরতা চলেছে।
একটা মেয়ে যেন বিয়ের আগে যৌনসুখ না পায় - এই নিষ্ঠুর মানসিকতায়,
তাকে সেলাই করে দেওয়া হতো!
ছোট ছিদ্র রাখা হতো শুধুমাত্র প্রস্রাব আর রজঃস্রাবের জন্য।
কিন্তু সে ব্যথা? সেই আতঙ্ক? সেই মানসিক শোক? তার হিসেব কে রাখে?
প্রশ্ন রাখি, নারীর যৌনিতে এমন কী আছে যা তোমার ‘অবশ্যই চাই’?
তা কি কোনো ঐশ্বরিক মুক্তো? নাকি তোমার পুরুষত্বের আত্মতুষ্টির উপকরণ?
জানি, ইসলামে এমন কিছু নেই।
কোনো ‘সতীচ্ছদ’-পরীক্ষার বিধান নেই।
তবুও কিছু স্কলার যেন এই ব্যাপারে "যৌনপুলিশ" হয়ে উঠেছে।
সত্য কথা হলো-
নারীর ভার্জিনিটি বলে কিছু নেই।
কারণ নারীর যৌনাঙ্গ সবসময় একই রকম থাকে না-
না সবসময় টানটান, না সবসময় শিথিল।
একজন অভিজ্ঞ, সংবেদনশীল নারী হয়তো তোমাকে এমন ভালোবাসা, এমন শরীরী আবেদন দেবে -
যেটা কোনো আনাড়ী তরুণী কখনো পারবে না।
তাই, ভার্জিনিটি নিয়ে যারা নারীর মর্যাদা মাপতে চায়, তারা নারী নয়, নিজেদের পুরুষত্বের দৈন্যতা প্রমাণ করে।
নারী ‘ব্যবহারযোগ্য’ নয়।
নারী হলো নিজের শরীর ও ইচ্ছার অধিকারী একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষ।
তাকে বেঁধে রাখা যাবে না কোনো "সতীত্ব"র ফাঁস দিয়ে।
নারী চলবে নিজের ছন্দে, নিজের শরীর নিয়ে, নিজের স্বাধীনতায়।
সে কারো যৌন-স্বর্গ নয়, সে নিজেই এক মহাবিশ্ব।